বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে বরিশাল নগরীর ৭ নং ওয়ার্ডের ভাটিখানা সৈয়দ হাতেম আলী মিরার পুরান বাড়ি এলাকায় অবৈধপন্থায় সম্পদের পাহাড় গড়া কারারক্ষী শহিদুল ইসলাম কর্তৃক জনসাধারণে চলাচলের রাস্তা দখল করে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন ও বহুতল ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে আবারো সিটি কর্পোরেশনে অভিযোগ দাখিল করেছেন এলাকাবাসী। একইসঙ্গে এই কারারক্ষীর অগাধ বিত্ত বৈভবের মালিক বনে যাওয়া নিয়ে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। কোটি কোটি টাকার অর্থের উৎসের বিষয়ে স্থানীয়সহ অভিজ্ঞমহল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন। এরআগে এলাকাবাসী কারারক্ষী কর্তৃক অবৈধপন্থায় ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে এবং তার অগাধ বৈত্ত বৈভবের মালিক বনে যাওয়ার বিষয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালনও করেন। পাশাপাশি বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত ৭ আগস্ট কারারক্ষী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু বিভাগীয় কমিশনার থেকে পাঠানো কারারক্ষীর ফাইলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গায়েব হয়ে যায়। কারারক্ষী শহিদুলের বিরুদ্ধে ২০ অক্টোবর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে এলাকাবাসীর পক্ষে ফের লিখিত অভিযোগ দেন সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট (অব:) শহিদুল ইসলাম। যার স্বারক নং ৯২৩৫।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উক্ত বিষয়ের সড়ক ও ড্রেনের ওপর দিয়ে আছমত আলী মাষ্টার দুইটি স্কুল, ২টি মাদ্রাসা, ২টি হাসপাতাল, ভাটিখানা বাজার, কাউন্সিলর অফিস ও ব্রাঞ্চ রোডে প্রত্যহ দুই হাজার লোক চলাচল করে আসছে। ২০২৩ সালের নির্বাচনের ব্যস্ততার সুযোগে বরিশাল কারাগারে কর্মরত কারারক্ষী শহিদুল ইসলাম হালটের সড়কের জমি দখল করে ডিপ বসানো ও বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ওই সময়ে এর প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধন, গণস্বাক্ষরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তের অভিযোগ দেন। গত বছরের ৩০ জুলাই বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৭ আগস্ট জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বিভাগীয় কমিশনারের স্বাক্ষরিত কপি খোঁজ করতে গেলে ফাইলের কোন হদিস মিলেনি। এস. এ শাখা থেকে প্রকাশ করেন যে- ফাইলটি পাওয়া যাচ্ছে না। তখন সার্জেন্ট সহিদুল ইসলামের কাছে রক্ষিত ফটোকপি জেলা প্রশাসনে দেন। এরপর একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন জেলাপ্রশাসন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সার্ভেয়ার মো: তোফাজ্জলের নিকট বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সার্ভেয়ার তোফাজ্জেল এবং কারারক্ষী শহিদুলের গ্রামের বাড়ি বাউফলের একইস্থানে হওয়ায় গোপন বুনিবনায় তদন্ত প্রক্রিয়া থেমে যায়। এ বিষয়ে তৎকালীন স্থানীয় কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম খোকনের সঙ্গেও গোপন বুনিবনায় মোটা অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ উঠে। এরফলে সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম খোকন কারারক্ষী শহিদুলের পক্ষাবলম্বন করেন। এরইধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারী কারারক্ষী শহিদুল ইসলামের সামনে বসে রফিকুল ইসলাম খোকন স্থানীয় জনগণের পক্ষে প্রতিবাদকারী সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট সহিদুল ইসলামকে উদ্দেশ্য হত্যার হুমকি দিয়ে বলেন, তুই এই দিকে তাকাবি না, তোরে মাইরা ফালামু।
চলতি বছরের ২১ এপ্রিল বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে দরখাস্ত দেওয়া হয়। উক্ত দরখাস্তখানাও ফাইলে পাওয়া যায়নি। সেটাও গায়েব করা ফেলা হয়। তখন রক্ষিত ফটোকপি সিটি কর্পােরেশনে জমা দেন সার্জেন্ট অব সহিদুল ইসলাম। এবার দায়িত্ব পান বিসিসির সার্ভেয়ার তাপস। তিনি সরেজমিনে এসে মাপজোক করার নামে কালক্ষেপন করতে থাকেন। একপর্যায়ে হঠাৎ করে ৩০ জুলাই বিসিসির সার্ভেয়ার তাপস সহ আরো দুই জনে সড়কের স্থান পরিমাপ করতে আসেন। স্বল্প সময়ে সরেজমিনে তিনি অবস্থান করে প্রকাশ করেন এখানে কোন সড়ক নেই। তবে ম্যাপে সড়ক আছে, গেজেট না হওয়া পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, সার্ভেয়ার তাপসের সঙ্গেও কারারক্ষীর গোপন বুনিবনা হওয়ার ফলে সঠিক মাপজোক না করেই চলে আসেন।
সরেজমিন ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৩ ও ৭ নং ওয়ার্ডের গাউয়াসসার এবং কাউনিয়া মৌজার সীমানা দাগ নং ৩৮০,৩৭৯,৩৭৩,৩৭২ ও ৩৬৪ ভাটিখানা হাতেম আলী সড়ক। হাতেম মিরার পুরান বাড়ির পূর্ব সীমানা দিয়ে উত্তরে একটি ড্রেন পান্থ সড়কে সংযোগ হয়েছে। ওই ড্রেনের ওপর দিয়ে প্রতিদিন শতশত লোক যাতায়াত করেন। যারা মাদক ব্যবসা করেন তাদেরকে পান্থ সড়ক দিয়ে ধাওয়া দিলে ওই ড্রেনের মধ্যে আশ্রয় নেয়। আবার হাতেম আলী সড়ক দিয়ে ধাওয়া দিলে ওই ড্রেনের মধ্যে মাদক কারবারীরা আশ্রয় নেয়। এখানে প্রশাসনের গাড়ি কিংবা অ্যম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারেনা। দীর্ঘদিন ধরেই এখানে মাদক ব্যবসা জমজমাট। এতে এলাকার পরিবেশ ক্রমেই নষ্টের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই স্থানটা ওয়ার্ডের বর্ডার হওয়ায় কোন ওয়ার্ড কাউন্সিলরই এটার দিকে নজর দিচ্ছে না।
অপরদিকে, হাতেম মিরার পুরান বাড়ির সড়ক কালভার্ট থেকে এ্যাড. মো: মোকলেচুর রহমান (বাচ্চু)র বাসার গেট পর্যন্ত, আনুমানিক দূরত্ব ১০০ ফুট। এই সড়ক খানার দুই পাশে ৯/১০টি বহুতল ভবন নিমাণ হচ্ছে, আরো হবে। কিন্তু এখানকার বাসিন্দাদের পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। যদিও এখানকার বাসিন্দারা নিয়মিত পানির কর পরিশোধ করে আসছে। অথচ বরিশাল সিটি কর্পােরেশনের পানির লাইন নেই।
এদিকে,
সচেতন মহলের অভিযোগ এক কুচক্রিমহলের যোগশাজসে জনসাধারণের চলাচলের পথে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করে কারারক্ষী শহিদুল ভবন নির্মাণ করার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে আশু দৃষ্টি কামনা করেন।
এসব বিষয়ে কারারক্ষী শহিদুল বলেন, আমি আমার সম্পত্তিতে ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে আসছি। ওই ড্রেনও আমার সম্পত্তির মধ্যে পড়েছে। তিনি বলেন, আমি কোন ড্রেন বা চলাচলের রাস্তা দখল করে টিউবওয়েল এবং ভবন নির্মাণ কাজ করছি না। এ বিষয়টি কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম খোকনও অবিহত বলে মন্তব্য করেন কারারক্ষী শহিদুল।
সূত্রমতে, কারারক্ষী মো: শহিদুল ইসলাম প্রায় দুই যুগ ধরে ঘুরেফিরে বরিশাল জেলা কারাগারে কর্মরত আছেন। তার গ্রামের বাড়ি বাউফলের কাছিপাড়া এলাকায়। নানাবিধ অবৈধপন্থায় তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
এসব বিষয় অভিজ্ঞ মহল বলছেন, এদের দখল দারিত্ব অবসান ঘটিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে পানির লাইন, ড্রেন, সড়ক নির্মাণ করে দেওয়ার আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল। কারারক্ষী শহিদুলের এতো অর্থের উৎসের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর তদন্তের দাবি জানান এলাকাবাসী।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply